জীবনে বহু ক'বর খুঁড়েছি কিন্তু…see more

 



জীবনে বহু ক'বর খুঁড়েছি। কিন্তু গত জুমাবার রাতের সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা আজও আমার বুক কাঁপিয়ে দেয়। 




ঘটনাটা কাউকে বিশ্বাস করাতে পারব কি না জানি না, কিন্তু আমার নিজের চোখের সামনে ঘটা দৃশ্য তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না!


সেদিন সারাদিন প্রচণ্ড বৃষ্টি। গো'রস্তানের মাটি একেবারে থিকথিকে কাদা হয়ে আছে। এশার নামাজের পর ফোন এলো,




- ‘ভাই, একটা লা'শ আসছে হাসপাতাল থেকে। বেওয়ারিশ লা'শ। কেউ নেই। তাড়াতাড়ি একটা কবরের ব্যবস্থা করেন।’




বৃষ্টির মধ্যে এমন কাদা-মাটিতে ক'বর খোঁড়া যে কত বড় কষ্টের কাজ, তা শুধু একজন গোরখোদকই জানে। আমি আর আমার সহকারী রফিক কোদাল নিয়ে নামলাম। বিরক্ত লাগছিল খুব। ভাবছিলাম, এমন দুর্যোগের রাতে কার লা'শ এলো রে ভাই!




কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার শুরু হলো কোদাল মাটিতে পড়ার পর থেকেই।




সাধারণত বৃষ্টির পর এই গো'রস্তানের মাটি আঠালো হয়ে যায়, কোদাল চালানো যায় না। কিন্তু সেদিন...সুবহানআল্লাহ! মাটি যেন তুলোর মতো নরম হয়ে আসছিল। রফিক অবাক হয়ে বলল, "উস্তাদ, ব্যাপার কী? মাটি এত ঝুরঝুরে লাগতেছে কেন? মনে হইতেছে কেউ আগে থাইকাই আমাদের জন্য মাটি খুঁইড়া রাখছে!"




আমি ধমক দিয়ে তাকে কাজ করতে বললাম। কিন্তু আমার নিজের বুকেও তখন বিস্ময়। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেলাম ক'বর খোঁড়া শেষ হওয়ার পর। গো'রস্তানের এই কোণায় ময়লা-আবর্জনার গন্ধ থাকে সবসময়। কিন্তু হঠাৎ করেই চারপাশটা একটা অদ্ভুত, স্নিগ্ধ সুবাসে ভরে গেল। কোনো আতরের গন্ধ নয়, মনে হলো যেন এক সাথে হাজারটা হাসনাহেনা আর গোলাপ ফুল ফুটেছে! বৃষ্টির সোঁদা গন্ধের সাথে সেই সুবাস মিলে এমন এক পরিবেশ তৈরি হলো, আমার মনে হলো আমি দুনিয়ার কোনো বাগানে নেই।




এর কিছুক্ষণ পরই অ্যাম্বুলেন্স এলো। মাত্র তিনজন মানুষ লা'শের সাথে। হাসপাতালের একজন স্টাফ, আর দুজন অপরিচিত লোক। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, মৃত ব্যক্তি কে? উনার কোনো আত্মীয়স্বজন নেই?"




হাসপাতালের স্টাফ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "না ভাই। উনি শহরের ওই বড় সিগন্যালটার পাশে বসে জুতো সেলাই করতেন। মুচি ছিলেন। আজ বিকেলে হঠাৎ স্ট্রোক করে মা'রা গেছেন। কেউ নেই উনার।"




আমি অবাক হয়ে লা'শের দিকে তাকালাম। সাধারণ সস্তা কা'ফনের কাপড়ে মোড়ানো একটা জীর্ণ শরীর। যখন তাকে ক'বরে নামানো হচ্ছিল, তখনো সেই মিষ্টি সুবাসটা যেন আরও তীব্র হলো। এত প্রশান্ত একটা চেহারা আমি জীবনে কোনো লা'শের দেখিনি। মনে হচ্ছিল, সারা জীবনের ক্লান্তি শেষে মানুষটা পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছে। তার ঠোঁটের কোণে যেন একটা হালকা হাসির রেখা।




দা'ফন শেষ করে আমি আর রফিক যখন ফিরে আসছি, তখন দেখলাম লা'শের সাথে আসা ওই দুজন অপরিচিত লোক অঝোরে কাঁদছেন। তাদের চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল তারা বেশ অবস্থাসম্পন্ন।




আমি আর কৌতূহল ধরে রাখতে পারলাম না। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "ভাই, আপনারা কি উনার আত্মীয়?"




তাদের মধ্যে একজন চোখ মুছে বললেন, "না ভাই। আমরা উনাকে চিনতামও না সেভাবে। কিন্তু আজ বিকেলে উনি যখন রাস্তায় পড়ে যান, আমরাই উনাকে হাসপাতালে নিই। ডাক্তার মৃত ঘোষণার পর উনার ছেঁড়া থলে থেকে একটা পুরোনো ডায়েরি পাই। সেটা পড়েই আমরা চমকে গেছি।"




তিনি ডায়েরিটা বের করলেন। "জানেন ভাই? এই লোকটা সারা দিন জুতো সেলাই করে যা পেতেন, তার নিজের জন্য রাখতেন মাত্র কয়েকটা টাকা। বাকি সব টাকা উনি গোপনে একটা এতিমখানায় দিয়ে আসতেন। গত দশ বছর ধরে একটা পঙ্গু মেয়ের চিকিৎসার পুরো খরচ এই মুচি লোকটা দিয়ে আসছিল, অথচ মেয়েটা নিজেও জানে না টাকাটা কে দেয়! ডায়েরিতে শুধু হিসাব লেখাঃ 'আজ এতিমখানার জন্য ২০০ টাকা', 'আজ ফাতেমার ওষুধের জন্য ১৫০ টাকা




লোকটার কথা শুনে আমার পুরো শরীর অবশ হয়ে এলো। চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারলাম না। আমি ফিরে তাকালাম সেই নতুন কবরটার দিকে। বুঝতে পারলাম, কেন রাতের অন্ধকারে এই কর্দমাক্ত মাটি তুলোর মতো নরম হয়ে গিয়েছিল। কেন চারপাশটা জান্নাতি সুবাসে ভরে উঠেছিল।




দুনিয়ার চোখে তিনি ছিলেন রাস্তার ধারের এক সাধারণ মুচি। কেউ তাকে দাম দিত না। কিন্তু আল্লাহর চোখে তিনি ছিলেন কতটা সম্মানিত, তা বিদায় বেলায় প্রকৃতি নিজেই সাক্ষ্য দিয়ে গেল।




গোপন আমল আল্লাহ কতটা পছন্দ করেন, সেদিন এই ঘটনা না দেখলে হয়তো কোনোদিনও বুঝতাম না! 




সওয়াবের নিয়তে ঘটনাটি শেয়ার করে দিন। আপনার শেয়ারে অনেকেরই ঈমান জাগ্রত হবে। বহু মানুষ দ্বীনের পথে ফিরবে, ইনশাআল্লাহ।




🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.


10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.

✅ Redirect happens only once per session.

🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেল...see more

কিস করার সময় জিহ্বার ব্যবহার সম্পর্কে যা জানা জরুরি …see more

একজন অভিভাবক হিসেবে আপনার জানা উচিত, কী লক্ষণগুলো...see more